
মযহারুল ইসলাম বাবলা
মযহারুল ইসলাম বাবলা
সকল লেখা

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বৈপরীত্য
চব্বিশের ৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর নিষ্ক্রিয় অবস্থান গ্রহণ অর্থাৎ, ক্ষমতায় থাকা সরকারের নির্দেশ অমান্যের ফলে এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যুত্থানে বিগত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। ত্যাগ-আত্মত্যাগের পর সরকার বদলে ভিন্ন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে কি?

গণ-অভ্যুত্থানগুলোর পরিণতি হতাশাজনক
আমার দেখা তিনটি গণ-অভ্যুত্থানের পরিণতির মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনি। প্রতিটির পরিণতি অভিন্ন। অথচ বহু ত্যাগ-আত্মত্যাগের অভ্যুত্থানগুলোর পরিণতি ঘটেছিল কেবলই ক্ষমতার হাতবদল। যে জনগণ আন্দোলনে সর্বাধিক অবদান রেখেছিল, সেই জনগণের কাছে ক্ষমতা পৌঁছায়নি। তাই গণ-অভ্যুত্থানে কেবলই শাসক বদল হয়েছে; সামষ্টিক..

শ্রমিকের অধিকার বলে কিছু নেই
আমাদের পুঁজিতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে শ্রমিকশ্রেণির প্রকৃত স্বার্থরক্ষার উপায় নেই। যেহেতু বিদ্যমান ব্যবস্থাটি হচ্ছে শ্রম-শোষণের এবং শ্রমিক-নিগ্রহের উর্বর ক্ষেত্র। সে ক্ষেত্রে শ্রমিকশ্রেণির স্বার্থরক্ষা কিংবা সুরক্ষার উপায় নেই। শ্রমিকমাত্রই শ্রমবাজারে শ্রম বিনিয়োগ করবেন এবং বিনিময়ে পাবেন মজুরি।

অপসংস্কৃতির কবলে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি
বাংলা নববর্ষ বরণকে কেন্দ্র করে আমাদের নগরকেন্দ্রিক জীবনে উপচানো আবেগ-উচ্ছ্বাস উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই আবেগ-উচ্ছ্বাস জাতিগত পারস্পরিক সৌহার্দ্যের নয়, সমষ্টিগতও নয়, একান্তই আত্মকেন্দ্রিকতায় সীমাবদ্ধ।

ক্ষমতার বদল নয়, বদল ঘটাতে হবে ব্যবস্থার
হঠাৎ বা আকস্মিক একটি সরকারের পতন ঘটতে পারে। একটি আন্দোলন অভ্যুত্থানেও পরিণত হতে পারে। কিন্তু একটি দেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। আমাদের স্বাধীনতা ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত হলেও এর পেছনে রয়েছে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ১৯৪৭-এর মধ্য আগস্টে ষড়যন্ত্রের দেশভাগের মধ্য দি

ভাষার প্রাসঙ্গিকতা অপরিহার্য
পৃথিবীর প্রতিটি জাতির আত্মপরিচয়ের মাপকাঠি হচ্ছে জাতীয়তা আর প্রধান অনুষঙ্গ ভাষা। ভাষা দিয়েই জাতীয়তার পরিচয় নির্ধারণ করা যায়। বিশ্বের অগণিত জাতিসত্তার মানুষ কে কোন জাতীয়তার, সেটা নিরূপণ করা যায় ভাষার দ্বারাই। ভাষা মানুষের অবিচ্ছেদ্য এবং সার্বক্ষণিক সঙ্গী। ভাষাবিহীন মানুষ অচল।

সংস্কৃতির আচার, অনাচার
১৯৮৮ সালে কলকাতার নাট্যদল নান্দীকারের নাট্য-উৎসবের আমন্ত্রণে ঢাকা থিয়েটারের প্রতিনিধিরূপে কলকাতায় গিয়েছিলাম। ‘কেরামত মঙ্গল’ নাটকটি উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল রবীন্দ্রসদনে। রবীন্দ্রসদনে উপচে পড়া দর্শকের উপস্থিতিতে নাটকের প্রদর্শনীর শেষে দর্শক প্রতিক্রিয়ায় হতাশ হয়েছিলাম। দর্শকদের অভিযোগ...

পূর্ব ও পশ্চিম-২
ক্ষিতিশচন্দ্র ধরকে সাতচল্লিশের বাংলা ভাগ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করেছিলাম। প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলা ভাগ অনিবার্য ছিল। কেননা, অখণ্ড বাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠরা ছিল মুসলমান। এতে হিন্দুরা মুসলমানদের দ্বারা পিষ্ট হতো।

পূর্ব ও পশ্চিম-১
পশ্চিম বাংলার স্থানীয় বাঙালিরা পূর্ববঙ্গীয়দের সম্পর্কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মনোভাব পোষণ করতেন। তার নজির আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় জেনেছি। বহু আগে থেকে কলকাতাসহ ভারত ভ্রমণের ফলে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে আলাপে তাঁদের মনোভাব জেনেছি। করোনার আগে শান্তিপুর লোকাল ট্রেনে ফুলিয়া থেকে শিয়ালদহ ফেরার পথে শান্তিপুরের স

আলো কবে আসবে
তিন মাস পার হলো, আমরা একটি অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলের অধীনে আছি। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের অবসান ঘটেছে। অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে জনমনে আশার সঞ্চার হয়েছিল—সামাজিক সব বৈষম্যের অবসান ঘটবে, আমাদের সামগ্রিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হবে, প্রকৃত স্বাধীনতা..

জাতীয় বিষয়ে বিতর্ক অনভিপ্রেত
শেখ হাসিনা সরকার নিজেদের যেমন অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বলে দাবি করত তা যে কত অসাড় ছিল, সেটা আমরা ১৫ বছরের শাসনামলে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। শিক্ষা এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বারবার হেফাজতে ইসলামের দাবি অনুযায়ী মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচিতে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়ে অসাম্প্রদায়িক রচনা বাতিল করেছিল। বাতিল করেছিল পাঠ্যসূ
